প্রচন্ড গরমে রাসূল (সা) এবং তাঁর সাহাবীগণ যেসব আমল করতেন.
প্রচন্ড গরম পড়ার কারণ সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোচনা
কুরআন ও হাদিসে গরমের প্রভাব এবং প্রচণ্ড গরম পড়ার কারণ সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই পর্যায়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কোরআনিক আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করা যায়:
১. **আল্লাহর দয়া**:
কুরআনে আল্লাহ প্রতি শ্রদ্ধা এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুরোধ করা হয়েছে। একইভাবে, হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ মানবকে পরীক্ষা করেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহানুভূতি প্রদর্শন করেন।
২. **মানব অবস্থার অধ্যয়ন**:
কুরআন ও হাদিসে মানুষের জীবনের সাথে সংকটের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে প্রচণ্ড গরমের সাথে মানুষের কঠিনাই এবং অসুস্থতার সংকটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
৩. **পরিবর্তনের সাথে সাহায্য এবং সতর্কতা**:
হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষ প্রচণ্ড গরমের সাথে সতর্ক থাকতে পারেন এবং পরিবর্তনের সাথে সাহায্য করতে পারেন।
৪. **সাহায্য ও সহানুভূতি**:
হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ মানুষদের সাহায্য করবেন এবং তারা সহানুভূতিতে প্রদান করবেন।
এই উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলি প্রদর্শন করে যে, কুরআন ও হাদিসে প্রচণ্ড গরম পড়ার সময়ে মানুষের সতর্কতা, সাহায্য, ধার্মিক প্রতি শ্রদ্ধা, এবং পরিবর্তনে সাথে থাকার সহায়তা এবং আল্লাহর অবলম্বনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রচন্ড গরম পড়লে আমাদের যা যা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত
প্রচণ্ড গরম পড়ার সময়ে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য কুরআন ও হাদিসে কিছু মৌলিক উপদেশ রয়েছে:
১. **পানির গুরুত্ব**:
কুরআনে আল্লাহ প্রতি শ্রদ্ধা এবং পানির গুরুত্ব প্রতি বার্তা দেন (সূরা আল মুলক ৩০). প্রচণ্ড গরমে মানুষের শরীর পানির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ক্ষতি হতে বাঁচার জন্য প্রতিরক্ষা করা প্রধান কর্ম হয়।
২. **সুস্থ ও নিরাপদ রক্ষণা**:
হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গরমে প্রচণ্ড গরম পড়ার সময়ে সবাইকে উদ্দীপ্ত রক্ষণা অনুসরণ করা উচিত (সহীহ বুখারি ১২). এটি মানুষের সুস্থতা ও নিরাপদতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. **সাহায্য ও সহানুভূতি**:
হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গরমে প্রচণ্ড গরম পড়ার সময়ে একে অপরের সাহায্য ও সহানুভূতি প্রদান করা উচিত (সহীহ বুখারি ৮০).
৪. **বিশ্রাম ও হিজমা**:
গরমে শরীরের ঠান্ডা রাখার জন্য বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গরমে ব্যক্তিরা প্রচণ্ড গরম পড়লে হিজমা করা উচিত (সহীহ মুসলিম ২৪০৩).
এই উল্লেখযোগ্য কুরআনিক আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করে যে, গরমে প্রচণ্ড গরম পড়ার সময়ে আমাদের পানির গুরুত্ব বৃদ্ধি, সুস্থ রক্ষণা অনুসরণ, সাহায্য ও সহানুভূতি, বিশ্রাম এবং হিজমা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই সতর্কতা ও পদক্ষেপগুলি মানুষের সুস্থতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচন্ড গরমে রাসূল (সা) এবং তাঁর সাহাবীগণ যেসব আমল করতেন.
১. হাশরের ময়দানের গরম ও জাহান্নামের ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, জাহান্নাম থেকে মাফ চাওয়া।
২. বেশি বেশি নফল সিয়াম রাখা, সাহাবীরা অধিক সাওয়াবের আশায় এমনটি করতেন।
৩. তীব্র গরমে যোহরের সালাত একটু দেরি করে পড়া।
8. মানুষ ও পশুপাখিকে পানি পান করানো, পানি পান যিনার গুনাহও মাফ করায়। (পাখিদের জন্য বারান্দায় পানি রাখা যেতে পারে)
৫. গরমকে গালিগালাজ ও অভিশাপ না করে সবর করা, কেননা সময় ও এর পরিবর্তন আল্লাহরই সৃষ্টি।
৬. ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য গোসল করা বা সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৭. ছায়াদার বৃক্ষ না কাটা, ছায়াযুক্ত স্থান নষ্ট না করা।
৮. বেশি বেশি তাওবা ইস্তিগফার করা।
৯. আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চেয়ে দু'আ করা যেতে পারে।
اللَّهُمَّ أَغِثْنَا
- হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। (সহীহ বুখারী: ১০১৪)
পরিশেষে বলতে চাই, আমরা যদি উপরিউক্ত আলোচনা অনুযায়ী নিয়মিত আমল করি তাহলে আমরা প্রচন্ড গরম হতে পরিত্রান পাব ইনশাআল্লাহ.
লেখক মোহাম্মদ আফ্ফান সাবিত.
ধন্যবাদ