রাতে ঘুমানোর পূর্বে রাসূল (সা) যা যা আমল করতেন.
হাদিস থেকে জানা যায়, রাতে ঘুমানোর পূর্বে রাসূল সা অনেকগুলো আমল করতেন। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আমল হলো:
১. ওজু করা:
ঘুমানোর আগে রাসূল সা অবশ্যই ওজু করে নিতেন। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে থাকাকালীনও তিনি ওজু ছাড়া ঘুমাতেন না। (বুখারী, হাদিস: ৬০০৭)
২. দাঁত মাজা:
ঘুমানোর আগে রাসূল সা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজতেন। (বুখারী, হাদিস: ৭৩১)
৩. বিছানা ঝাঁটু দেওয়া:
ঘুমানোর আগে রাসূল সা বিছানা ঝাঁটু দিয়ে পরিষ্কার করে নিতেন। (তিরমিযী, হাদিস: ৩০০০)
৪. ডান পা দিয়ে বিছানায় শোয়া:
রাসূল সা সাধারণত ডান পা দিয়ে বিছানায় শুয়ে যেতেন। (বুখারী, হাদিস: ৬৩০৭)
৫. ঘুমানোর দোয়া পড়া:
ঘুমানোর আগে রাসূল সা নিম্নলিখিত দোয়াগুলো পড়তেন:
- আয়াতুল কুরসি:
- (বুখারী, হাদিস: ৫০০৯)
- সুরা ফালাক এবং সুরা নাস:
- (বুখারী, হাদিস: ৫০৭৭)
- দুই হাত তালুতে মিলিয়ে দোয়া:
- এই দোয়াটিতে রাসূল সা আল্লাহর কাছে নিজেকে, পরিবারকে এবং মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা ও রক্ষার জন্য প্রার্থনা করতেন। (বুখারী, হাদিস: ৫০৭৫)
৬. "বিসমিল্লাহ" বলে ঘুমানো:
রাসূল সা ঘুমানোর সময় "বিসমিল্লাহ" বলে বিছানায় শুয়ে যেতেন। (মুসলিম, হাদিস: ৩৭০৭)
৭. "আল্লাহুম্মা আসলিমনী সালামান" বলে ঘুমানো:
রাসূল সা ঘুমানোর সময় "আল্লাহুম্মা আসলিমনী সালামান" বলে দোয়া করতেন। যার অর্থ হলো: "হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদে ঘুমাতে দিন।" (তিরমিযী, হাদিস: ৩৪০৬)
এছাড়াও, রাসূল সা ঘুমানোর আগে আরও অনেক দোয়া ও সূরা পড়তেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন এবং নিজেকে আল্লাহর রক্ষায় সমর্পণ করতেন।
রাসূল সা-এর এই আমলগুলো মেনে চললে আমরাও বরকতপূর্ণ ঘুম পেতে পারি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারি।
- ৮.اللهم بسم الله ربي الليل أعوذ بك من شره ومن شر ما خلقه
অর্থ: "হে আল্লাহ! রাতের নামে, যা আপনার রব, আমি এর মন্দতা এবং এর মধ্যে যা আপনি সৃষ্টি করেছেন তার মন্দতা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।"
- ৯. "اللهم اغفر لي ذنبي ووسع لي فيما قبلته"
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার গুনাগুলো ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য যা গ্রহণযোগ্য করুন তা আমাকে প্রসন্ন করুন।"
১০. اللهم إني أسلمت في اسمك ووجهك ورضاك وسلمت لك نفسي وأشهد أنك أنت الله لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك وأشهد أن محمدا عبدك ورسولك
- অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে সমর্পণ করছি, আমি এর উপর বিশ্বাস করছি এবং আমি এর প্রতি আত্মসমর্পণ করছি।"
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরার ফজিলত:
ইসলামে ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরার অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে রয়েছে, নবী (সাঃ) বলেছেন, "যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। যদি তুমি মারা যাও, তাহলে তুমি মুসলিম হিসেবে মারা যাবে। আর যদি তুমি সকালে জেগে ওঠো, তাহলে তোমার রবের কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভ করবে।" (বুখারী)
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরার কিছু ফজিলত হল:
- আল্লাহর সঙ্গে নৈকট্য বৃদ্ধি পায়।
- ক্ষমা লাভ হয়।
- জান্নাত লাভের আশা বৃদ্ধি পায়।
- বু¦র স্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
- শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- সুন্দর ঘুম হয়।
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত:
- কিবলামুখী হয়ে দোয়া পড়তে হবে।
- وضوء করে দোয়া পড়া উচিত।
- খাঁটি নিয়তে দোয়া পড়তে হবে।
- মনোযোগ দিয়ে দোয়া পড়তে হবে।
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ আমল। নিয়মিত ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পড়লে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় এবং দুনিয়া ও পরকালে সফলতা অর্জন করা যায়।
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরার কিছু ফজিলত হল:
- আল্লাহর সঙ্গে নৈকট্য বৃদ্ধি পায়।
- ক্ষমা লাভ হয়।
- জান্নাত লাভের আশা বৃদ্ধি পায়।
- বু¦র স্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
- শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- সুন্দর ঘুম হয়।
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত:
- কিবলামুখী হয়ে দোয়া পড়তে হবে।
- وضوء করে দোয়া পড়া উচিত।
- খাঁটি নিয়তে দোয়া পড়তে হবে।
- মনোযোগ দিয়ে দোয়া পড়তে হবে।
ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পরা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ আমল। নিয়মিত ঘুমানোর পূর্বে দোয়া পড়লে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় এবং দুনিয়া ও পরকালে সফলতা অর্জন করা যায়।
লেখক মোহাম্মদ আফ্ফান সাবিত.
ধন্যবাদ
.png)
