কুরবানী কাকে বলে? , কুরবানীর ইতিহাস:,কার কার উপর কুরবানী ওয়াজিব? কুরআন ও হাদীস এর আলোকে বিস্তারিত আলোচনা.
কুরবানী কাকে বলে?
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, ঈদুল আযহার নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করাকেই কুরবানী বলা হয়।
কুরবানীর ইতিহাস:
ঐশ্বরিক নির্দেশ থেকে বর্তমান রীতিনীতি
কুরবানীর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। জগৎ সৃষ্টির শুরুর দিকেই কুরবানীর প্রচলন শুরু হয়েছিল।
আদম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্রদের কুরবানী:
- আদম (আলাইহিস সালাম)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল যখন উভয়েই কুরবানী দিয়েছিলেন, তখন একজনের কুরবানী কবুল হয়েছিল এবং অন্যজনের হয়নি।
- কুরআনে এই ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। (সূরা মায়েদা: আয়াত ২৭-২৮)
হযরত ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ত্যাগ:
- ইসলামের ইতিহাসে কুরবানীর সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা হল হযরত ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা।
- আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তিনি তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-কে কুরবানী করতে যান।
- কিন্তু যখন তিনি ছুরি চালাতে যাবেন, তখন আল্লাহ তায়ালা একটি পশুকে বলিদান হিসেবে পাঠিয়ে দেন। (সূরা সো'আদ: আয়াত ১০৭-১১০)
- এই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ঈদুল আযহায় মুসলমানরা কুরবানী দিয়ে থাকেন।
ইসলামে কুরবানীর নিয়ম:
- ইসলামে কুরবানীর নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে।
- ঈদুল আযহার নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করাই ইসলামী কুরবানী।
- কুরবানীর পশু হতে হবে উট, গরু, ছাগল বা ভেড়া।
- পশু সুস্থ, বয়স্ক ও নির্দিষ্ট গুণাবলী সম্পন্ন হতে হবে।
কুরবানীর গুরুত্ব:
- কুরবানী মুসলিমদের ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, ত্যাগ স্বীকার ও আত্মসমর্পণের প্রমাণ, দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য এবং ঈশ্বরের নিকটতা অর্জনের মাধ্যম।
উল্লেখ্য যে:
- কুরবানীর ইতিহাস বিশ্বাস, ত্যাগ ও ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
- যুগে যুগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বিভিন্ন রীতিতে কুরবানী দিয়ে এসেছে।
- আজকের দিনেও কুরবানী মুসলিমদের ঈমান ও ঐক্যের
কুরবানীর উদ্দেশ্য:
- আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা
- ত্যাগ স্বীকার ও আত্মসমর্পণের প্রমাণ দেওয়া
- দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য করা
- ঈশ্বরের নিকটতা অর্জন
কার কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
নিম্নলিখিত শর্তাবলী পূরণকারী সকলের উপর কুরবানী ওয়াজিব:
- মুসলমান হওয়া: কুরবানী শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যই ওয়াজিব।
- স্বাধীন হওয়া: গোলাম বা বন্দীর উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
- বয়স্ক হওয়া: পূর্ণ বয়স্ক (بالغ) হওয়ার পরই কুরবানী ওয়াজিব হয়।
- সাধ্যসম্পন্ন হওয়া: নিজের ও নির্ভরশীলদের মৌলিক চাহিদা পূরণের পর যদি অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তাহলেই কুরবানী ওয়াজিব হয়।
- ঈদুল আযহার দিন উপস্থিত থাকা: ঈদুল আযহার দিন সূর্যোদয়ের পর থেকে ঈদের তৃতীয় দিনের অস্ত যাবৎ যেকোনো সময় কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব।
কাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়?
- অপ্রাপ্তবয়স্ক: যারা এখনও পূর্ণ বয়স্ক হয়নি তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
- অস্বাধীন ব্যক্তি: যারা গোলাম বা বন্দী তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
- নির্ধন ব্যক্তি: নিজের ও নির্ভরশীলদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যদি পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকে তাহলে তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
উল্লেখ্য যে:
- একজনের পক্ষ থেকে অন্যজন কুরবানী দিতে পারে।
- শরিক হয়েও কুরবানী দেওয়া যায়।
- কুরবানীর মাংস নিজে খাওয়া, আত্মীয়স্বজনকে বিতরণ করা এবং দান করা - সবই বৈধ।
- কুরবানী মুসলিমদের ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লেখক মোহাম্মদ আফ্ফান সাবিত.
ধন্যবাদ
.png)